কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষকের অবদান অপরিসীম। রোদ, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে কৃষক ফসল উৎপাদন করেন। অথচ মৌসুম শেষে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। বাজারে ভোক্তা বেশি দামে পণ্য কিনলেও উৎপাদক কৃষক তার ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন।
কৃষিপণ্যের বাজারে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। সংরক্ষণাগারের অভাবে কৃষক দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে ধান, আলু, পেঁয়াজ, টমেটো ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের দাম কমে গেলে কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণাগার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং সরাসরি বাজারজাত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষককে ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমবে।
কৃষি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষকের উৎপাদন খরচ, শ্রম ও ঝুঁকির মূল্যায়ন না করলে নতুন প্রজন্ম কৃষিকাজে আগ্রহ হারাবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় কৃষককে সম্মান, প্রযুক্তি, সহজ ঋণ এবং ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।