Below Main Menu
মেনু
News16
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

এক দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, জামালপুরে সাত পরিবারের কান্না

জামালপুর প্রতিনিধি প্রকাশ : শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ 76 বার পঠিত
এক দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, জামালপুরে সাত পরিবারের কান্না
ছবি : দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, জামালপুরে সাত পরিবারের কান্না
Single News Top

জামালপুর প্রতিনিধি: মায়ের হাত ধরে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ও তার ছোট সন্তান। আরেকটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রীও বের হয়েছিলেন পথের উদ্দেশ্যে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ময়মনসিংহের সড়কে থেমে গেল সাতটি জীবন।

শুক্রবার ময়মনসিংহে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন সাতজন। তাদের সবাই জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ও শরীফপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার মা রাশিদা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও মর্জিনার শিশু সন্তান মিনান। এছাড়া নিহত হয়েছেন সিএনজি চালক সুজন আলী এবং শরীফপুর ইউনিয়নের আক্রাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগম।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার গভীর রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো জামালপুরে আনা হয়। শনিবার সকালে নিহতদের নিজ নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

গাজীপুর যাওয়ার পথেই শেষযাত্রা

নিহতদের স্বজনদের ভাষ্য, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। মা রাশিদা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনানকে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন লেবু। নান্দিনা থেকে সিএনজিতে প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ময়মনসিংহে পৌঁছানোর আগেই বাসের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষে শেষ হয়ে যায় তাদের যাত্রা।

একই পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকাহত স্বজনরা এখন ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

সাত পরিবারে শোক

রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নিজ গ্রামে। একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে জানাজা হয় অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা ও তার শিশু সন্তান মিনানের। সিএনজি চালক সুজন আলীর জানাজা হয় বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামে।

অন্যদিকে শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয় আক্রাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগমকে।

সাতজনের একসঙ্গে মৃত্যুতে জামালপুরের গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

রাজীব পরিবহন নিয়ে প্রশ্ন

দুর্ঘটনার পর রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ২০ মাসে রাজীব পরিবহনের বাসের কারণে অন্তত ৯টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

তবে এই পরিসংখ্যানের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার এই দাবির পাশাপাশি পরিবহনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, চালকদের দক্ষতা ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, একসঙ্গে ভেঙে দেয় একাধিক পরিবার। ময়মনসিংহের এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ সাতজনের মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে। এখন স্বজনদের একটাই দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা।

Single News Bottom

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে