১০ তলার অনুমোদন, ১২ তলা নির্মাণের অভিযোগ: তেরখাদিয়ায় সুইমিংপুল উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় একটি ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১০ তলা নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও ভবনটিতে ১২ তলা নির্মাণ এবং ১২ তলার অনুমোদন ছাড়াই সুইমিংপুল নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সুইমিংপুলটি উচ্ছেদ করেছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)।
ভবনটির একাধিক ফ্লাটের মালিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনী প্রকৃয়া শেষে রাইশা টাওয়ারে অভিযান চালায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অভিযানকে কেন্দ্র করে ভবন মালিক ও নির্মাণকারী আব্দুর রশিদের সঙ্গে আরডিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগও উঠেছে ভবন মালিক ও বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই আরডিএ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইটকে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন ভবন মালিক আব্দুর রশিদ। প্রকাশ্যে চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়ার এ অভিযোগ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
অনুমোদন ১০ তলা, নির্মাণ ১২ তলা:
আরডিএর অনুমোদন অনুযায়ী ভবনটি ১০ তলা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ১২ তলা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ১২তলার একাংশে অনুমোদন ছাড়াই সুইমিংপুল নির্মাণের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে ভবনটির অনুমোদিত নকশা এবং বাস্তব নির্মাণের মধ্যে ঠিক কী ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে, তা যাচাই করছে আরডিএ। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বর্তমান স্থাপনার মিল আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে বাধা ও চেয়ারম্যান ও হুমকির অভিযোগ:
সুইমিংপুল উচ্ছেদে আরডিএর অভিযান চলাকালে ভবন মালিক ও বিএনপির কয়েকজন নেতার আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভবন মালিক আব্দুর রশিদ আরডিএ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইটকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন এবং অভিযোগকারী ভবনটির বিভিন্ন তলার ৪ ফ্লাট মালিককেও হত্যার হুমকী দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। আরডিএর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদনহীন স্থাপনার আরা অন্যান্য বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভবন মালিককে ঘিরে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ:
স্থানীয়দের ভাষ্য, আব্দুর রশিদের স্থায়ী বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলায়। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
এছাড়া স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মাদক ও আদম ব্যবসার মতো বিভিন্ন অভিযোগের কথাও শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, মহানগর পুলিশের দুই পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে জামায়াত ও বিএনপি’র প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
বক্তব্য দিতে রাজি নন আব্দুর রশিদ:
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভবন মালিক ও নির্মাণকারী আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এ সময় তিনি উগ্রতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণ হয়ে থাকলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এতদিন তা কীভাবে নজরদারির বাইরে ছিল। আরডিএর চলমান যাচাই ও আইনানুগ পদক্ষেপের পরই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
