Below Main Menu
মেনু
News16
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

চিলাহাটি স্থলবন্দর অচল, থমকে গেছে উত্তরের অর্থনীতির চাকা

নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ 44 বার পঠিত
চিলাহাটি স্থলবন্দর অচল, থমকে গেছে উত্তরের অর্থনীতির চাকা
ছবি : চিলাহাটি স্থলবন্দর অচল, থমকে গেছে উত্তরের অর্থনীতির চাকা
Single News Top

নীলফামারী প্রতিনিধি: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক স্থলবন্দর, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন ভবন ও আন্তর্জাতিক রেল অবকাঠামো পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর ও রেলপথ দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায় চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২১ সালে এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ভারত থেকে পাথর আমদানি এবং যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

সীমান্ত বাণিজ্য সচল করতে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল ইয়ার্ড, আধুনিক কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম, ওভারব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পাথর আমদানি কমে যাওয়া এবং যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব অবকাঠামোর ব্যবহার থেমে যায়। সরকারি ব্যয় সংকোচননীতির আওতায় স্থলবন্দরটির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুহুল আমিন জানান, ২০২১ সাল থেকে এ পথে ভারত থেকে মূলত পাথরবোঝাই ট্রেন আসত। মাসে চার থেকে পাঁচটি মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতে পাথরের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি কমতে থাকে এবং পরে বন্ধ হয়ে যায়। একই বছরের জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাথরবাহী প্রতিটি চালান থেকে রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ প্রায় ২০ থেকে ২৬ লাখ টাকা আয় করত। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে স্টেশনের আয় ছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কমে দাঁড়ায় ৩৫ লাখ টাকায়।

বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা স্থানীয় উদ্যোক্তারাও পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসায়ী তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে বন্দরের কার্যক্রম ঘিরে অবকাঠামো তৈরি করেছিলেন। বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত বন্দরটি চালুর দাবি জানান তিনি।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর-রহমানের মতে, চিলাহাটি স্থলবন্দর পুনরায় চালু হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবীর জানান, স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত সীমিত। স্থলবন্দর ও রেলপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উদ্যোগ এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিপুল অর্থে নির্মিত অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে চিলাহাটি স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক রেলপথ পুনরায় চালু করা হবে। এতে সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিও গতি ফিরে পাবে।

Single News Bottom

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে