Below Main Menu
মেনু
News16
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

রাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ 65 বার পঠিত
রাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ
ছবি : রাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ
Single News Top

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও নিজে নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে মামাকে দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিজেও স্বীকার করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার।

নাফিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৫ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালে বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাফিউল ইসলাম জীবন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত পাঠদান না করে তাঁর মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাস করিয়ে আসছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম বলেন, জীবনের পরিবর্তে অন্য একজন ক্লাস নেন। জীবন তাঁকে জানিয়েছিল, তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তাই আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করেছে সে।

এভাবে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে ক্লাস করানো নিয়মসম্মত কি না, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কেউ এতে বাধা দেননি। তাঁরাও বিষয়টি এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছেন। শুরু থেকেই এভাবে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। জীবন মাস্টার্স শেষ করলে হয়তো নিয়মিত ক্লাস নেবে। জীবনের পরিবর্তে যিনি ক্লাস নেন, তাঁর নাম আসমত আলী বলেও জানান অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি আসে। এরপর নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরিবার থেকেও তাঁকে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জীবন আরও বলেন, রাকসু নির্বাচনের পর তিনি মাদ্রাসায় যোগ দেন। তখনো তাঁর মাস্টার্স শেষ হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়ে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ চান তিনি। তখন তাঁকে মাস্টার্স চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য কাউকে দিয়ে ক্লাস করানোর কথা বলা হয়। পরে তাঁর মামা আসমত আলী, যিনি কামিল পাস করেছেন, তাঁর পরিবর্তে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন।

জীবনের ভাষ্য, মাদ্রাসা থেকে পাওয়া বেতনের অর্ধেক তিনি মামাকে দেন, আর বাকি অর্ধেক নিজে রাখেন।

বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি জড়িত থাকায় তিনি বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ তাঁর চাকরির দায়িত্ব অন্য একজন পালন করছেন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, এভাবে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Single News Bottom

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে