Below Main Menu
মেনু
News16
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর, নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে টাঙ্গাইলের পরিবার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ 46 বার পঠিত
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর, নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে টাঙ্গাইলের পরিবার
ছবি : সুয়েতি আক্তার ও তার পরিবার
Single News Top

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটি পরিবার। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা এক নারীকে নিজেদের মেয়ে সুয়েতি আক্তার বলে দাবি করেছে পরিবারটি। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুয়েতি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছোট মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। পরিবারের দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুয়েতি। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। পরে মুঠোফোনে সুয়েতি নিজেই তাঁদের আটকের কথা জানান।

পরিবারের দাবি, সুয়েতি তাঁদের কাছে মারামারির মামলায় গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন। তবে সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক বান্ধবী পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সুয়েতির পরিবারকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। অন্যদিকে মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা ফজলু মিয়া। তাঁদের আশঙ্কা, ছবিতে থাকা নারী তাঁদের মেয়ে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না।

ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তখন সুয়েতি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এখন মেয়ের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সুয়েতির অবস্থান নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া এবং মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিরচ্ছেদের ঘটনায় সুয়েতি আক্তারের সম্পৃক্ততা বা তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হচ্ছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাননি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে খোঁজ নেওয়া হবে।

Single News Bottom

আন্তর্জাতিক থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে