Below Main Menu
মেনু
News16
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহার নিয়ে বিরোধ, তিন দিন পর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু

ইফতেখার আলম বিশাল প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ 112 বার পঠিত
বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহার নিয়ে বিরোধ, তিন দিন পর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু
ছবি : বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহার নিয়ে বিরোধ, যুবকের মৃত্যু
Single News Top

ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রুহুল (১৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীনের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, রুহুলের বড় খালা মাছের ব্যবসা করেন এ কারণে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রুহুলকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার তিন দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া (সরদারপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৯ অক্টোবর দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

রুহুলের মা রজিনা বেগমের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহীন তাঁর ভাতিজা। শাহীনের বড় ছেলের বিয়েতে তাঁকে ও তাঁর বড় বোন রাজিয়া বেগমকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দাওয়াত দেওয়ার এক দিন পর শাহীন তাঁকে জানান, তাঁর বড় বোন মাছের ব্যবসা করেন। হাটে-বাজারে ব্যবসা করার কারণে বিয়েতে গেলে তাঁদের পরিবারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন হবে। এ কারণে তাঁদের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়।

রজিনা বেগম বলেন, “দাওয়াত দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তাঁর কথামতো আমরা বিয়েতে যাইনি। আমিও বাড়ি ছেড়ে বোনের বাসায় চলে যাই। দুই বোন মিলে সন্তানদের নিয়ে নিজেরাই রান্না করে খেয়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তাঁরা বাড়িতে ফেরেন। পরে শাহীন, তাঁর ছেলে স্বাধীনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা মারধর করতে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাঁরা বাড়ির বাইরে যান। পরে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে ফিরে এসে রুহুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল এবং তিনি অচেতন ছিলেন।

রুহুলের বড় খালা রাজিয়া বেগম বলেন, “আমি নারী হয়েও কষ্ট করে মাছের ব্যবসা করি। অভাবের সংসার হলেও কারও কাছে হাত পাতি না। আমাকে দাওয়াত দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ায় আমার বোনও ওই অনুষ্ঠানে যায়নি। এরপর আমার সন্তানতুল্য ভাগনে রুহুলকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

অভিযুক্ত শাহীনের চাচা মুন্তাজও ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীন বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তাঁদের বিরোধ রয়েছে। রুহুলকে ভালো ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় শাহীনের হাতে জ্বলন্ত বস্তু এবং স্বাধীনের হাতে হাতুড়ি ছিল। সেগুলো দিয়ে রুহুলকে একের পর এক আঘাত করা হয়।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ১৯ অক্টোবর তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন স্থানীয় কেউ বা পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি। ফলে সেদিন পুলিশের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে যাননি।

ওসি আরও বলেন, “ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি, এমন তথ্য সঠিক নয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা যে-ই হোক, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

Single News Bottom

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে