প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১ অক্টোবর পালিত হবে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives’। মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, প্রবীণরা পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই প্রবীণদের প্রতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার মাধ্যমে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা আরও সুরক্ষিত করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন। বার্তায় ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করা হয়েছে।
