গরমে স্বস্তি দিতে ঘরেই তৈরি করুন জিরা পানি
গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পানীয় পান করেন। এর মধ্যে সহজে তৈরি করা যায় জিরা পানি। সামান্য কয়েকটি উপকরণ দিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় এই পানীয়। ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে গরমের দিনে এটি হতে পারে অতিথি আপ্যায়নেরও একটি সহজ আয়োজন।
জিরা পানি তৈরিতে যা লাগবে:
আমের গুঁড়ো: ২ টেবিল চামচ
চিনি: ২ টেবিল চামচ
পানি: ১ কাপ
তেঁতুলের মাড়: ২ চা চামচ
লেবুর রস: ২ চা চামচ
জিরা টালা গুঁড়া: ১ চা চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
১. প্রথমে আমের গুঁড়ো ও চিনি পানিতে ভালোভাবে গুলে নিন।
২. এবার ওই পানিতে তেঁতুলের মাড় ও লেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিন।
৩. ছেঁকে নেওয়ার পর এতে ভাজা জিরার গুঁড়া মিশিয়ে দিন। জিরা মেশানোর পর প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর প্রয়োজন হলে আবার ছেঁকে নিতে পারেন। তবে জিরা দেওয়ার পর ছেঁকে নিলে এর গন্ধ ও স্বাদ কিছুটা কমে যেতে পারে।
৪. এতে প্রায় দুই পরিবেশন জিরা পানি হবে। গরমের দিনে ঠান্ডা করে অতিথিদেরও পরিবেশন করা যায়।
পরিবেশনের পরামর্শ
জিরা পানির স্বাদ আরও উপভোগ্য করতে পরিবেশনের আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিতে পারেন। চাইলে গ্লাসে বরফ দিয়েও পরিবেশন করা যায়।
উপকারিতা
১. হজমে সহায়ক হতে পারে
জিরা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যায় ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খাবারের পর পরিমিত জিরা পানি পেটের অস্বস্তি কমাতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
২. শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক
গরমের সময়ে শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। জিরা পানি একটি তরল পানীয় হিসেবে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
জিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব যৌগ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. রুচি বাড়াতে পারে
জিরার সুগন্ধ ও স্বাদ পানীয়টিকে বেশ রুচিকর করে তোলে। বিশেষ করে খাবারের পর হালকা জিরা পানি অনেকের কাছে সতেজ ও আরামদায়ক মনে হতে পারে।
৫. কম ক্যালরির পানীয় হতে পারে
চিনি কম বা না দিয়ে তৈরি করলে জিরা পানি তুলনামূলক কম ক্যালরির একটি ঘরোয়া পানীয় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে এর ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়।
সতর্কতা: জিরা পানির এসব সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা থাকলেও সব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
